একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট বিরল এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি ঘটবে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সৌদি আরব। ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পারবেন দেশটির লাখ লাখ বাসিন্দা ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা। অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে যাওয়া এই গ্রহণটি বিজ্ঞানীদের জন্য সূর্যের বহিরাবরণ বা ‘করোনা’ গবেষণার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করবে।
৬ মিনিটের অন্ধকার ও রুট ম্যাপ
জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সভাপতি মাজেদ আবু জাহরা জানিয়েছেন, এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথটি লোহিত সাগরের উপকূল থেকে শুরু হবে। এরপর এটি মক্কা, জেদ্দা, তাইফ, আল-বাহা, খামিস মুশাইত, জাজান এবং নাজরানসহ সৌদির বেশ কিছু প্রধান শহর ও গভর্নরেটের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।
সর্বোচ্চ অন্ধকারের সময়: সূর্যগ্রহণের প্রভাবে পশ্চিম ও দক্ষিণ সৌদি আরবের কিছু অংশ টানা প্রায় ছয় মিনিটের জন্য পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যাবে।
শহরভিত্তিক স্থায়িত্ব: সৌদির মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, ‘আভা’ (Abha) শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৬ মিনিট পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। এছাড়া জেদ্দা এবং পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ড স্থায়ী অন্ধকার নেমে আসবে।
আংশিক গ্রহণ: পূর্ণগ্রাসের মূল রুটের বাইরে থাকা সৌদির অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন। সেসব এলাকায় সূর্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে ঢেকে যেতে পারে।
সৌদি আরবের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ মিশরে এই সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব দেখা যাবে বলে জানিয়েছে মহাকাশ সংস্থা। ফলে এই অঞ্চলটি বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হতে যাচ্ছে।
প্রকৃতিতে প্রভাব ও সতর্কতা
পূর্ণগ্রাস চলাকালীন সময়ের জন্য প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে কিছু সাময়িক পরিবর্তন আসবে- দিনের আলো হঠাৎ করেই ম্লান হয়ে গোধূলির রূপ নেবে। হুট করে আলো কমে যাওয়ার কারণে ওই সময়ে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
সৌদি মহাকাশ সংস্থার সতর্কতা
মহাকাশ সংস্থা এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি উপভোগ করার জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করলেও বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।
সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, চোখের স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে অনুমোদিত ‘সোলার এক্লিপ্স গ্লাস’ (গ্রহণ দেখার চশমা) বা বিশেষ ফিল্টারযুক্ত সরঞ্জাম ছাড়া কেউ যেন সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকান।
এম







































