• ঢাকা
  • রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮
স্বনির্ভর হতে পারছে না জাপা

‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা ঘোচাতে চায় নেতাকর্মীরা


বিশেষ প্রতিনিধি সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১, ০২:২২ পিএম
‘গৃহপালিত বিরোধী দলের’ তকমা ঘোচাতে চায় নেতাকর্মীরা

ঢাকা : জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বপ্ন ছিল গৃহপালিত বিরোধী দলের তকমা ঝেড়ে দলকে স্বনির্ভর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আজো অধরা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

তারা মনে করছেন, পরনির্ভরশীল রাজনীতি দলটিকে জনগণের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ দলের এমন অবস্থানে ক্ষুব্ধ।

তাদের মতে, ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগীরা দলকে সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু কোনো কারণে জাতীয় পার্টি তথাকথিত বিরোধী দলের ভূমিকা থেকে ছিটকে পড়লে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে যারা জাতীয় পার্টিকে মনঃপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন দলে তাদের অবমূল্যায়ন হচ্ছে। দলের এই শ্রেণির নেতাকর্মীরা গৃহপালিত বিরোধী দলের ভূমিকা থেকে বেরিয়ে রাজপথের আন্দোলনের ওপর তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সুবিধাভোগীরা সেটি চান না। এতে প্রকৃত নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ এবং হতাশা তৈরি হচ্ছে। দলের প্রতি তাদের ভালোবাসা ক্ষীণ হচ্ছে। জনগণের মাঝেও দলের গ্রহণযোগ্যতা অনেক কমে এসেছে।’

ওই নেতা মনে করেন, সত্যিকার অর্থে কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখতে না পারায় কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে দলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। এখন বনানীর কার্যালয়ে যেসব নেতাকর্মীর ভিড় দেখা যায় তাদের বেশিরভাগই ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির জন্য সেখানে যান। ক্ষমতা চলে গেলে তাদের দেখা মিলবে না।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন মনে করেন, জাতীয় পার্টিতে এখন দুটি শ্রেণি রয়েছে, যাদের একটি অংশ শুধু নির্বাচনের জন্য রাজনীতি করেন। নির্বাচন এলে তারা সরব হন। আর অন্য অংশ হলেন-যারা সত্যিকার অর্থে দলকে ভালোবেসে জাতীয় পার্টির জন্য কাজ করছেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির এই সমস্যাগুলো এখন বেড়েই চলেছে। নির্বাচন এলেই একটি অংশ খুব তৎপর হয়। অথচ দলের সক্রিয় রাজনীতিকদের এখানে মূল্যায়ন হয় না।’

জাতীয় পার্টির সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে লোটন বলেন, ‘মানুষ আমাদের ভালো চোখে দেখছে না। আমরা বিরোধী দল ঠিকই; কিন্তু সেই ভূমিকাটা পালন করতে পারছি না। এর ফলে দলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’

যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় এবং সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি যদি এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাহলে কেমন ফলাফল হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে লোটন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যতই ভালো কাজ করুক না কেন, বর্তমানে মানুষের মাঝে এখন এন্টি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্ট তৈরি হয়েছে। আর জাতীয় পার্টি যেহেতু কথিত বিরোধী দলের ভূমিকায় তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তখন আমাদের ওপর একটা ধাক্কা আসবে।

তবে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের যে সততা রয়েছে, তিনি যদি জনগণের কাছে যেতে পারেন তাহলে হয়তো কিছুটা সুফল মিলবে। তবে তাতে খুব বেশি আশান্বিত হওয়ার কিছু দেখছি না।’

দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, পরোক্ষভাবে জাতীয় পার্টির মধ্যে কয়েকটি ভাগ রয়েছে, যাদের একটি অংশ সরকারের সাথে সমন্বয় রক্ষা করে চলছে। অন্য অংশটি সরকারবিরোধী। তারা কোনোভাবেই চায় না যে জাতীয় পার্টি সরকারের সঙ্গে থাকুক। আরেকটি অংশ রয়েছে দলের যে-কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে উভয় দিকেই সায় দিয়ে যাচ্ছে। তারা চায় জাতীয় পার্টির অন্তত টিকে থাক।

এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলও রয়েছে। তবে দলের সরকারবিরোধী অংশটি সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। বিপরীতে সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট অংশ সদর্পে টিকে আছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Haque Milk Chocolate Digestive Biscuit
Wordbridge School
Sonali IT Pharmacy Managment System