• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

নওগাঁয় সরকারি খাল খননের মাটি টেন্ডার ছাড়াই ইটভাটায় নেওয়ার অভিযোগ


নওগাঁ প্রতিনিধি মার্চ ৩, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
নওগাঁয় সরকারি খাল খননের মাটি টেন্ডার ছাড়াই ইটভাটায় নেওয়ার অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি

নওগাঁয় সরকারি খাল খননের মাটি টেন্ডার ছাড়াই রাতের আঁধারে পাশের একটি ইটভাটায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন সাময়িকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও রাতে আবারও মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে এবং খালপাড়ের রাস্তাসহ আশপাশের গ্রামগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পিকেএসএফের সহযোগিতায় ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) বাস্তবায়নে এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট–ড্রট (ইসিসিসিপি–ড্রট)–এর আওতায় নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নে তিন কিলোমিটার খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয় ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। পশ্চিম শিকারপুরের জব্বার মেম্বারের বাড়ি থেকে মোবারক মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত খয়রাদাড়া খালটি খননের জন্য প্রতি কিলোমিটার ৩৩ লাখ টাকা হিসেবে মোট ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। খননকাজ করছে টেকবে ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল খননের মাটি কোনো টেন্ডার ছাড়াই পাশের বনফুল ব্রিক্স ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এক কিলোমিটার খননকাজ শেষ হয়েছে। এ অংশের প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাটি রাতের বেলায় ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। মাটির লোভে খালের পাশে রাস্তায় প্রয়োজনীয় পাড় না রেখে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকার একমাত্র চলাচলের রাস্তা ও খালপাড়ের গ্রামগুলো বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং ইটভাটায় মাটি নেওয়া বন্ধ করতে বলেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, নির্দেশের পরও রাতেই ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাক্টর দিয়ে আবার মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হয়।

পশ্চিম শিকারপুর গ্রামের নজরুল হোসেন বলেন, খালের দিকে রাস্তার সীমানা প্রায় ১৫ ফুট। খাল খননের মাটি দিয়ে রাস্তা বেঁধে দেওয়ার কথা থাকলেও সব মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁর বাড়ির সামনে রাস্তা ধসে যেতে শুরু করেছে। এভাবে খনন চলতে থাকলে বর্ষায় রাস্তা ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই গ্রামের রাজুসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, রাতে ৪০ থেকে ৫০টি ট্রাক্টরে করে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এতে সরকার লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। প্রশাসন দিনে বন্ধ করলেও রাতে আবার মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেকবে ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের প্রতিনিধি ইসরাইল হোসেন বলেন, খাল খননের কোনো মাটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে না। খালের ওপরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি খনন করে তা নেওয়া হচ্ছে এবং সেই গর্তে খালের কাদা মাটি ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে।

বনফুল ব্রিক্স ইটভাটার মালিক একরামুল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইবনুল আবেদীন বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে মাটি নেওয়াসহ কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। খাল খননে কত ঘনফুট মাটি বের হবে তা হিসাব করে নিলাম আহ্বান করা হবে। এরপরও কেউ যদি অবৈধভাবে মাটি কাটার চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!