• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

প্রকৃতিতে ফুটে উঠেছে ভাটি ফুল


সনৎ চক্রবর্ত্তী, ফরিদপুর মার্চ ৩, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
প্রকৃতিতে ফুটে উঠেছে ভাটি ফুল

ছবি: প্রতিনিধি

শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে গ্রামীণ বাংলার আনাচে–কানাচে, রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত মাঠে অযত্নে ফুটে উঠেছে ভাটি ফুল। স্থানভেদে এটি ভাটফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল বা ঘণ্টাকর্ণ নামেও পরিচিত। তবে ফরিদপুর অঞ্চলে এটি ‘ভাটিফুল’ নামেই বেশি পরিচিত।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, ভাট গাছ একটি সপুষ্পক ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত গাছটি তিন থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। কাণ্ড সবুজাভ ও শক্ত প্রকৃতির। পাতা বড়, ডিম্বাকার ও কিছুটা রুক্ষ। পাতায় এক ধরনের তীব্র গন্ধ রয়েছে। ভাট গাছের ফুল সাদা রঙের, হালকা গোলাপি বা বেগুনি আভাযুক্ত এবং গুচ্ছাকারে ফোটে। ফুলের মাঝখানে লম্বা পুংকেশর বেরিয়ে থাকে, যা দেখতে আকর্ষণীয়। ফল প্রথমে সবুজ এবং পাকার পর নীলচে–কালো রঙ ধারণ করে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বসন্তের আগমনে পলাশ ও শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাটি ফুল ফোটে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসজুড়ে বিশেষ করে রাস্তার দুপাশ, বন, জলাশয়ের পাড় ও পরিত্যক্ত জমিতে ভাট গাছের ঝোপ চোখে পড়ে। গাছের প্রধান কাণ্ড সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সাধারণত দুই থেকে চার মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফুল ফোটে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত এ ফুলের সমারোহ দেখা যায়। এতে রয়েছে মিষ্টি সুঘ্রাণ, বিশেষ করে রাতে সুগন্ধ ছড়ায় বেশি। ফুল ফোটার পর মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে ভিড় জমায়।

ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাটিফুলের দেখা মিললেও স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় এখন কিছুটা কম দেখা যায়। অযত্নে–অবহেলায় বেড়ে ওঠা ভাট গাছ যেন চৈত্রের প্রান্তরে প্রাকৃতিক ফুলের তোড়া হয়ে ফুটে থাকে।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ–ও মুগ্ধ হয়েছিলেন ভাটি ফুলের সৌন্দর্যে। তাঁর ‘বাংলার মুখ’ কবিতায় তিনি লিখেছেন, “ছিন্ন খঞ্জনার মতো যখন সে নেচেছিল ইন্দ্রের সভায়/ বাংলার নদী মাঠ ভাঁট ফুল ঘুঙুরের মতো তার কেঁদেছিল পায়।”

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ময়না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কালিপদ চক্রবর্ত্তী বলেন, ভাটি ফুল সৌন্দর্যপ্রিয় মানুষের মনের খোরাক জোগায়। রাস্তার পাশে বা পরিত্যক্ত জমিতে অনাদরে বেড়ে ওঠা ভাট গাছ বসন্তে প্রকৃতির সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করে। পথচারীরা উপভোগ করেন বাংলার আদি বুনো ফুলের অপরূপ রূপ।

অর্ক চক্রবর্ত্তী নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ফাল্গুন এলেই প্রকৃতিতে ভাটি ফুল ফোটে। এতে পরিবেশে নতুন আবহ তৈরি হয়। বসন্তের আগমনে পলাশ–শিমুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এ ফুল ফুটতে দেখা যায়, যা প্রকৃতিকে আরও রঙিন করে তোলে।
 

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!