• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

জেনিথ ইসলামী লাইফের বার্ষিক প্রিমিয়াম আয়ে ৪১% প্রবৃদ্ধি


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম
জেনিথ ইসলামী লাইফের বার্ষিক প্রিমিয়াম আয়ে ৪১% প্রবৃদ্ধি

ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশের শরীয়াহভিত্তিক জীবন বীমা খাতে দ্রুত এগিয়ে চলা প্রতিষ্ঠান জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে। সদ্য সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি প্রিমিয়াম আয়, নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ, লাইফ ফান্ড বৃদ্ধি এবং শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগে দৃঢ় অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। এই সাফল্য কোম্পানিটির টেকসই উন্নয়ন কৌশল ও গ্রাহক আস্থার শক্ত ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

মোট প্রিমিয়াম আয়ে ৪০.৭২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি:  ২০২৫ সালে জেনিথ ইসলামী লাইফ সর্বমোট ৪৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে, যেখানে ২০২৪ সালে এ পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এক বছরে ৪০.৭২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি জীবন বীমা খাতে কোম্পানিটির শক্তিশালী অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহে অভাবনীয় সাফল্য: প্রথম বর্ষ বা নতুন প্রিমিয়াম আয় ছিল প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। ২০২৫ সালে কোম্পানিটি ২৪ কোটি ১০ লাখ টাকা নতুন প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৮.২৩% বেশি। এই সাফল্য নির্দেশ করে- নতুন গ্রাহক সংযোজন, বিক্রয় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং পণ্য বৈচিত্র্যের কার্যকর বাস্তবায়ন।

একক, গ্রুপ ও হেলথ ইন্সুরেন্সে সম্প্রসারণ: একক (সিঙ্গেল) বীমা থেকে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা প্রিমিয়াম। গ্রুপ ও হেলথ ইন্সুরেন্স থেকে ২ কোটি ৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা ২০২৪ সালের ১৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা থেকে ৭৫.৮১% বেশি।

নবায়ন প্রিমিয়ামে স্থিতিশীল অগ্রগতি: বিদ্যমান গ্রাহকদের আস্থাই কোম্পানির বড় শক্তি। ২০২৫ সালে নবায়ন প্রিমিয়াম সংগ্রহ হয়েছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.৩৬% বেশি। এটি পলিসি ধরে রাখার সক্ষমতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টির স্পষ্ট প্রতিফলন।

ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানিটি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে অনুমোদিত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের হার ০.৬১ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানিটির মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নির্দেশ করে।

দাবি পরিশোধে অনন্য দৃষ্টান্ত: গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স। ২০২৫ সালে কোম্পানিটি উত্থাপিত মোট বীমা দাবির ৯৯.৫৪ শতাংশ পরিশোধ করেছে। আলোচ্য বছরে বীমা কোম্পানিটিতে মোট উত্থাপিত দাবির পরিমাণ ৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে কোম্পানিটি পরিশোধ করেছে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বীমা দাবি।

এর আগে ২০২৪ সালে কোম্পানিটির দাবি পরিশোধের হার ছিল ৯৮.১৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির বীমা দাবি পরিশোধের হার ২০২৫ সালে ১.৪১ শতাংশ বেড়েছে। এ ধারাবাহিক উন্নতি গ্রাহকসেবায় কোম্পানিটির প্রতিশ্রুতি ও সক্ষমতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

লাইফ ফান্ডে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি: ২০২৫ সালে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ডে ২৯.৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আলোচ্য বছরে কোম্পানিটি ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা নতুন তহবিল লাইফ ফান্ডে যুক্ত করেছে, যা বীমা গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিনিয়োগে ইতিবাচক বৃদ্ধি ২০২৫ সালে কোম্পানিটির মোট বিনিয়োগ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ৮.৬১% প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এটি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও বিচক্ষণ আর্থিক পরিকল্পনার ফল।

এ প্রসঙ্গে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালের এই প্রবৃদ্ধি আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যবসা কৌশলের বাস্তব প্রতিফলন। আমরা শুধু প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নই; বরং শরীয়াহসম্মত, স্বচ্ছ ও নৈতিক বীমা সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, প্রায় শতভাগ দাবি পরিশোধ আমাদের গ্রাহকের আস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রমাণ। প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, পণ্য বৈচিত্র্য এবং দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা দেশের ইসলামী জীবন বীমা খাতে একটি শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এস এম নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জেনিথ ইসলামী লাইফের গ্রুপ বীমার আওতায় এসেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে দ্রুত ও মানসম্মত গ্রাহকসেবা প্রদানের ফলে। তিনি আরো বলেন, জেনিথ ইসলামী লাইফ ভবিষ্যতেও টেকসই প্রবৃদ্ধি, নৈতিক বীমা সেবা এবং গ্রাহক আস্থার ভিত্তিতে দেশের ইসলামী জীবন বীমা খাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর।

এএইচ/পিএস

Wordbridge School
Link copied!