• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা


নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ১, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা

ফাইল ছবি

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষার সুযোগ দিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী ডিসেম্বরে পুনঃপরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। একই মাসে ফল প্রকাশেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য দ্রুত পরীক্ষার রুটিন ও ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় উপজেলা পর্যায়ে একটি করে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের মাধ্যমে চলমান শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী যেসব বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব বিষয়েই পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। বিষয়সংখ্যা সর্বনিম্ন তিন ও সর্বোচ্চ চারটি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে কোনো শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাঁকে শুধু ওই বিষয়েই পরীক্ষা দিতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ৫০০টি উপজেলায় একটি করে কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। বিশেষ করে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পরীক্ষার্থী বেশি থাকায় এ দুটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরীক্ষার ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখারও চেষ্টা চলছে। কেন্দ্র পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যয়ের ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করা হবে। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, এক বিষয়ে অকৃতকার্য প্রায় দুই লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে আনুমানিক ৮০ শতাংশের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের ভূমিকা রয়েছে।

ডিসেম্বরে পুনঃপরীক্ষা ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও একই সময়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে সমন্বয় করতে হবে।

পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তবে পুনঃপরীক্ষায়ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও কেয়ারগিভিংয়ের মতো কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এদিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষা ও আর্থিক ব্যয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষায় দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি।

এসএইচ 

Link copied!