দু’টি চাকার ওপর ভর করে এগিয়ে চলে জীবন, বাতাসে ওড়ে মুক্তির আনন্দ। কখনও শৈশবের প্রথম জয়ের গল্প, কখনও ব্যস্ত শহরের বুক চিরে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর বিশ্বস্ত বন্ধু— সাইকেলের চাকার ঘূর্ণনে মিশে আছে কতশত মানুষের স্বপ্ন আর আবেগ। আজ ৩ জুন, সেই চিরচেনা দ্বিচক্রযানের দিন; বিশ্ব সাইকেল দিবস।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বিশেষ এই দিনটি। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ রোধে সাইকেলের গুরুত্ব তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন সাইক্লিং সংগঠন ও রাইডার কমিউনিটিগুলো গ্রহণ করেছে বর্ণাঢ্য র্যালি, সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও বিশেষ রাইডের নানা কর্মসূচি।
যেভাবে এলো এই বিশেষ দিন
আজকের এই বিশ্বজনীন উদযাপনের পেছনে জড়িয়ে আছে একজন মানুষের দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও আন্দোলনের গল্প। যুক্তরাষ্ট্রের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি প্রথম বাইসাইকেলের প্রচারণায় বিশ্বব্যাপী এক অভিনব আন্দোলন শুরু করেন। তার স্বপ্ন ছিল, পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর এই বাহনটির সম্মানে জাতিসংঘ একটি নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করুক।
২০১৫ সালে অধ্যাপক সিবিলস্কি মূলত একটি সাধারণ একাডেমিক প্রজেক্ট হিসেবে কাজটি শুরু করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তার সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ রূপ নেয় এক বিশাল গণআন্দোলনে। পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ তার এই ভাবনার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘের স্বীকৃতি
অধ্যাপক সিবিলস্কির সেই আন্দোলনের সূত্র ধরেই আসে চূড়ান্ত সফলতা। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে প্রতি বছরের ৩ জুন তারিখটিকে ‘বিশ্ব সাইকেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।
ঐতিহাসিক এই প্রস্তাবটি পাসের পেছনে মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তান অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা ও সমর্থন দিয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্বের প্রায় ৫৬টি দেশ এই প্রস্তাবের সহ-পৃষ্ঠপোষকতা করে। সেই থেকে প্রতি বছর ৩ জুন বিশ্বজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
েএম







































