ফাইল ছবি
বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে দীর্ঘদিনের দালালনির্ভরতা ভেঙে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর পথে এগোচ্ছে মালয়েশিয়া। তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই নিয়োগ ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা মালয়েশিয়ায় দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা। সংসদ সদস্যদের প্রশ্ন এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বারবার উঠে এসেছে, দালালচক্রের কারণে শ্রমিকদের অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে। এতে তারা ঋণদাসত্ব ও আধুনিক দাসপ্রথার মতো শোষণের শিকার হচ্ছেন।
প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তারা সরাসরি বিদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। বর্তমানে নিয়োগকর্তাদের এজেন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হয়, ফলে শ্রমিক প্রকৃত চাকরির শর্তে সম্মত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই অনেক শ্রমিক অভিযোগ করেন, একটি চাকরির কথা বলে নিয়ে এসে ভিন্ন ধরনের কাজে বাধ্য করা হয়।
এই ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক এজেন্ট ফি বন্ধ করা। মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অনেক শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় আসার আগেই পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয়, যা মানবপাচার, সামাজিক সমস্যা ও অর্থপাচারের ঝুঁকি বাড়ায়।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিদেশি ও গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগ ফি এক মাসের মজুরির বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে শ্রমিকদের ১৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার রিঙ্গিত এবং নেপালি নিরাপত্তারক্ষীদের ক্ষেত্রে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত দিতে বাধ্য করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তার চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত শ্রমিক নির্বাচন করা যাবে। পছন্দ হলে এক ক্লিকেই ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তাৎক্ষণিক অনুবাদ সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। শ্রমিক প্রেরণকারী দেশগুলোর আইন ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি উচ্চ ব্যবহার সামাল দিতে নিরাপদ ও টেকসই প্রযুক্তি কাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে মালয়েশিয়াকে আসিয়ান অঞ্চলের একটি নৈতিক নিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিকিং ইন পারসনস প্রতিবেদনে টিয়ার-১ অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সরকার থেকে সরকারভিত্তিক হবে, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকবে না। মাই ডিজিটাল ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকের পরিচয় যাচাই, বেতন প্রদানসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে স্বচ্ছতা বাড়বে, ব্যয় কমবে এবং শ্রমিক শোষণ রোধে একটি বড় অগ্রগতি হবে।
এসএইচ







































