• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

রাজশাহীতে আসছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতা-কর্মীরা


রাজশাহী প্রতিনিধি জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
রাজশাহীতে আসছেন তারেক রহমান, উচ্ছ্বসিত নেতা-কর্মীরা

ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী: দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাজশাহী আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তারেক রহমানের সফর ঘিরে রাজশাহীজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাজসাজ রব। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বরণ করতে উদগ্রিব হয়ে উঠছেন।

নির্বাচনি জনসভার মাঠ প্রস্তুত থেকে শুরু করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে তোড়জোর শুরু করেছেন রাজশাহী জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সমাবেশে ৫ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্য দেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ১২টায় তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগদান করবেন। সেখানে তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেবেন।
 
পরবর্তীতে এদিন বিকেলে তিনি নওগাঁয় আরেকটি জনসভায় অংশ নিবেন। নওগাঁর জনসভা শেষে বিএনপির চেয়ারম্যান বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথিমধ্যে দুপচাঁচিয়া ও কাহালুতে পথসভায় বক্তব্য দিবেন। এরপর রাত ৮টায় বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে কথা বলবেন। জনসভা শেষে সেখানে তিনি রাত্রিযাপন করবেন।

বগুড়ায় গিয়ে তিনি বাইতুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ, দত্তবাড়ী শহিদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতাল, জেলা বিএনপির কার্যালয় পরিদর্শন করবেন। এরপর ৩০ জানুয়ারি সকালে বগুড়া শহরের চারমাথা, বারপুর ও সাবগ্রামসহ তার নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ পথসভায় বক্তব্য দিবেন।

এদিন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে পৃথক পৃথক পথসভা করবেন। পথসভা শেষে তিনি গাবতলীর বাগবাড়ী পিতৃভূমিতে পা রাখবেন। পরের দিন ৩১ জানুয়ারি সকালে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক হয়ে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

উত্তরাঞ্চলে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে রাজশাহীর বিএনপি নেতকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর দলের চেয়ারম্যানের এই সফর ঘিরে তারা নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। সফর ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তার নির্বাচনি জনসভাকে ঘিরে প্রস্তুত করা হচ্ছে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৪ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি জনসভা সফল করা লক্ষে প্রচার চালাচ্ছি। আশা করছি সেদিন উপজেলা থেকে ১০ হাজার কর্মী নিয়ে রাজশাহীতে উপস্থিত হবো।
 
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন উর রশিদ বলেন, জনসভা সফল করতে আমরা পাড়া-মহল্লায় সভা করছি। একই সঙ্গে ধানের শীষের জন্য ভোট প্রার্থনা করা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানাকে বলা আছে ১১টার মধ্যে মাদ্রাসায় উপস্থিত হওয়ার। আশা করা যাচ্ছে মহানগর থেকে ৫০ হাজার কর্মী উপস্থিত থাকবে। এর সঙ্গে গণসংগঠনের নেতাকর্মীরাও থাকবে। 

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, রাজশাহী জেলা, মহানগর, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নিয়ে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা প্রতিটি জেলার সঙ্গে বৈঠক করেছি। এছাড়াও উপজেলা, ইউনিয়নগুলো জনসভা সফল করার লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছে। আমরা আশা করছি ৫ লাখ মানুষ এই জনসভায় উপস্থিত হবে।

আমাদের সময়সূচিও ঠিক করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর থেকে বাস, ট্রেন, মাইক্রোবাস করে আসবে। রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলাও একইভাবে আসবে। মহানগরের নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে মাদ্রাসা মাঠে প্রবেশ করবে। আমরা আমাদের দলের চেয়ারম্যানকে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনই উপহার দিতে চাই। এই লক্ষ্যে কাজ চলছে।    

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাজশাহীতে আসছেন। এর আগে ২০০৬ সালে তিনি রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে তৃণমুল বিএনপির কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পর তিনি রাজশাহীতে আসছেন। চেয়ারম্যানের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরবেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি এই তিন জেলাকে কি উপহার দেবেন তা ঘোষণা করবেন। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে বিএনপি নেতকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। শুধু রাজশাহী না চাঁপাইনবাবগঞ্জের নেতাকর্মীরা বেশ উৎফুল্ল। আমরা বরাবরের মতো বিশাল সমাগম ঘটাবো। আমাদের নেতাকর্মীরা রাজশাহীতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে শুধু বিএনপি নয় এর অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এই জনসভা সফল হবে বলেই মনে করি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভা নিয়ে পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে আমরা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখছি। ইতোমধ্যে সাদা পোশাকে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। সমাবেশস্থল ও এর আশেপাশে বিপুল পরিমাণ পুলিশ উপস্থিত থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ থাকবে। সেদিন শুধু মাঠের নিরাপত্তায় ৫০০ পুলিশ সদস্য থাকবেন। এর বাইরে আরও পুলিশ রাখা হবে।

পিএস

Wordbridge School
Link copied!