• ঢাকা
  • বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

শেয়ারবাজার উন্নয়নে ১০ সুপারিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
শেয়ারবাজার উন্নয়নে ১০ সুপারিশ

ছবি: নিজস্ব

ঢাকা: গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই আইসিইউয়ে প্রবেশ করে সংস্কারের নামে বিনিয়োগকারীদের অর্থনৈতিক গণহত্যার ন্যায় ‘শিকার’ করছে। যার ফল বর্তমান ভয়াবহ দুর্বিসহ বাজার পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ১০টি সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারী) বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুল হক এসব প্রস্তাব পেশ করেন।

রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনটির সভাপতি কাজী মো. নজরুলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ১০টি প্রস্তাবনা ও সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। এরমধ্যে রয়েছে-

১. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বিনিয়োগকারী সংগঠনের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করে বিনিয়োগকারীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সময়োপযোগী যুগান্তকারী প্রস্তাবনা থাকতে হবে। দলগুলোর ইশতেহারে সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাংকিং সেক্টরে,পুঁজিবাজারে এবং ইন্সুরেন্স সেক্টরে কি কি রিফর্ম করবে, কি কি বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ রাখবে, তা পরিষ্কার করতে হবে। 

২. পুঁজিবাজারে দৈনিক শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে একই শেয়ার দিয়ে নিটিং সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এই নিয়ম ইতিপূর্বে ২০০৭ সালে বাজারে ইতিবাচকভাবে প্রচলিত ছিল। এতে বাজারে প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের একটি শক্তিশালী ও টেকসই মূল্যস্তর বজায় থাকবে। এই নিয়মটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজদের অনৈতিক কমিশন প্রাপ্তির লোভের কারণে পুঁজিবাজারে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। 

৩. বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও প্রটোকল সমান সমান করতে হবে। এতে দেশের পুরো আর্থিক খাত এবং পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের অযাচিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুরুব্বিয়ানা দূর হয়ে সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে। 

৪. পাঁচটি ব্যাংক মার্জারের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই ৫টি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ফেসভ্যালু ১০ টাকা প্রদান করতে হবে অথবা নতুন সম্মিলিত ব্যাংকের সমপরিমাণ শেয়ার প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডারকে প্রদান করতে হবে। এছাড়াও বর্তমান সরকারের দুই মাস মেয়াদে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নতুন নির্বাচিত সরকার ফেব্রুয়ারি-২০২৬ এর পর মার্জার ও অবসায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আগামী দুই মাস বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর কেবলমাত্র তার রুটিন ওয়ার্ক সম্পাদন করতে পারবেন।

৫. আগামী ৩ মাসের মধ্যে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সেতু বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর বিন্দুমাত্র শৈথিল্যতা বরদাশত করা হবে না। এ ছাড়া নেসলে বাংলাদেশ, ইউনিলিভারসহ অন্যান্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, মেটলাইফ, অপসোনিন, এসকেএফ (ঔষধ কোম্পানি), নাসির ফ্লট গ্যাস, পিএইচপি গ্লাস, সরকারি লাভজনক স্বায়ত্তশাসিত কোম্পানি, দেশের অন্যান্য লাভজনক কোম্পানি বাজারে অবিলম্বে তালিকাভুক্ত করলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে। পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বাহিরে থাকতে পারে না।

৬. কোনো কোম্পানি ৫০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করতে হলে, কোন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে না। তাকে অবশ্যই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মূলধন সংগ্রহ করতে হবে। এতে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং পুঁজিবাজারে ভাল ভাল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়ে বাজারকে টেকসই ও গতিশীল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করবে।

৭. কোন কোম্পানি ইপিএস, এনএভি, এনওসিএফপিএস ইতিবাচক থাকার পরও লভ্যাংশ ঘোষণা না করলে কিংবা ১০ পয়সা, ২৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করলে, ঐ কোম্পানিকে ‘জেড’ গ্রুপে না পাঠিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই কোম্পানির সকল পরিচালকদের শেয়ার ‘ফ্রিজ' করে দিয়ে পুরো বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন বোর্ড পুনর্গঠন করে দিলে অন্যান্য কোম্পানি এই ধরণের আর্থিক কেলেঙ্কারী করার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস করবে না।

৮. বিএসইসির কাজের স্বচ্ছতা, আইপিও অনুমোদনের স্বচ্ছতা এবং বাজারে ইতিবাচক অবদান রাখার জন্য একটি শক্তিশালী অ্যাডভাইজরী কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিতে অর্থমন্ত্রণালয়ের দুইজন, হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন আইনজীবী, অডিট ফার্ম থেকে দুইজন, লিস্টেড কোম্পানি অ্যাসোসিয়েশন থেকে দুইজন, বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ থেকে দুইজন ও দুইটি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে দুইজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৯. বিগত ১৭ বছরে রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামোর পলিসি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে উল্লেখ করার মতো যোগ্য একজনও দায়িত্বে আসেননি; যিনি দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিস্থাপন করবেন। আগামী দিনগুলোতে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি মেধাভিত্তিক সার্চ কমিটির মাধ্যমে (নির্বাচন কমিশনের আদলে) বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

১০. ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যেসব বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, বিএসইসি ‘বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল’ থেকে তাদের জন্য নতুন ফান্ড বরাদ্ধ দিতে হবে।

এএইচ/পিএস

Wordbridge School
Link copied!