ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধান হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আর মাত্র একদিন পরই তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠন হওয়ার কথা। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয় আগামীর নেতৃত্ব নিয়ে। সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই গুলশানের কার্যালয়ে বাড়তে থাকে শীর্ষ নেতাদের আনাগোনা, আর টানা কর্মব্যস্ততায় সময় কাটাতে থাকেন তিনি। দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, জোটসঙ্গী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শুভেচ্ছা গ্রহণ-সব মিলিয়ে সময় পার করছেন ব্যস্ততায়।
নির্বাচনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করেন তিনি। সেখানে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন। এ ছাড়া প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে। অনেকের মতে, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারা বজায় রাখার ইঙ্গিতই এতে রয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনের আগেই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন দলের চেয়ারম্যান। এখন সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েই তাঁর সময় কাটছে।
নির্বাচনের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করেন তারেক রহমান। বিভিন্ন এলাকার ফলাফল নেন, নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিশ্চিত জয়ের বার্তা নিয়েই রাতে বাসায় ফেরেন। পরদিন বিজয় মিছিল না করে সারা দেশে দোয়া-মাহফিলের কর্মসূচি দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পরদিন জুমার নামাজের পর দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। একই রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দলীয় সূত্র বলছে, পরিষ্কার ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচনের তৃতীয় দিনে রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার কথাও জানান।
এদিকে নির্বাচনে জয়ী নেতাদের পাশাপাশি পরাজিতদের সঙ্গেও দেখা করছেন তিনি। দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন এবং অনেককে সান্ত্বনাও দিচ্ছেন।
বিদেশি নেতাদের অভিনন্দন বার্তা ও টেলিফোনও পাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর নেতাদের বাসায় যাওয়ার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে শপথের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার গঠন, সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এসএইচ






































