ফাইল ছবি
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ঔষধ ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে র্যাব-৮ ও র্যাব-১৪–এর যৌথ দল তাঁদের আটক করে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), একই এলাকার সামসুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
রোববার সন্ধ্যায় মাদারীপুরে র্যাব-৮ ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান র্যাব-৮–এর অধিনায়ক কমান্ডার শাহাদাত হোসেন।
র্যাব জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বাসিন্দা খোকন চন্দ্র দাস দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। তিনি ঔষধ ব্যবসার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের এজেন্ট ছিলেন। হামলাকারীরা তাঁকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁরা।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় খোকন দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এরপর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন, টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়। খোকন দাসের কাছে ব্যবসার নগদ টাকা থাকার তথ্য পেয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে আক্রমণ করা হয়।
র্যাব-৮–এর অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসএইচ







































