পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের টানা বোমা ও বন্দুক হামলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক পাল্টা অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৩ জনে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
তিনি জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় সংঘটিত সহিংস ঘটনায় ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ১৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে চালানো অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এটি অন্যতম বৃহৎ ও সফল অভিযান।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশটির অন্তত ১২টি শহরে একযোগে এই হামলা চালানো হয়। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ স্টেশন, আধাসামরিক বাহিনীর ঘাঁটি, কারাগার ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করা হয়। সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের ওপরও আক্রমণ চালায়।
মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি আরও জানান, রোববারের মধ্যেই অধিকাংশ আক্রান্ত এলাকা থেকে হামলাকারীদের হটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে সতর্কতার অংশ হিসেবে পুরো প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বেলুচিস্তানের সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটি দাবি করেছে, তাদের অভিযানে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলমান বেলুচ বিদ্রোহের ইতিহাসে এই সহিংসতা অন্যতম রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার পুনরায় অভিযোগ তুলেছে যে, বিএলএ ভারতের প্রত্যক্ষ সহায়তায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, বিএলএর অভিযোগ—বেলুচিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদ কেন্দ্রীয় সরকার ভোগ করলেও স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রয়ে গেছে।
এম







































