• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

আগেও বলেছি এখনও বলছি, নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
আগেও বলেছি এখনও বলছি, নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)  মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগেও বলেছি এখনও বলছি, নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। উক্ত সেলে জরুরি যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর: ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২-৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩ এবং মোবাইল নম্বর:  ০১৫৫০-০৬৪২২৬ (Whats app) ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট যে কোন অভিযোগের জন্য উল্লিখিত নম্বরগুলোতে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন ও সজাগ থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা চাই, সবাই মিলে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে যেটি বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে রোলমডেল হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি জনগণের আস্থার জায়গায় দাঁড়াতে পারে, তবে আইন প্রয়োগ সহজ হয়। আর যদি আস্থা হারায়, তবে শক্তি দিয়েও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের আস্থা অর্জনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তারা যেন কখনো কোনো বেআইনি আদেশ, কোনো স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা বা কোনো পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ না হয়, এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও অবৈধ ও বেআইনি আদেশ মানা যাবে না- সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

উপদেষ্টা আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মানবিক মূল্যবোধ, সততা, নৈতিকতা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেশপ্রেমের মহান ব্রত নিয়ে জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্বপালন করতে হবে। তারা যেন কোন প্রার্থী বা এজেন্টের নিকট থেকে কোনো প্রকার অনৈতিক বা অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ না করেন- এমনকি দায়িত্ব পালনকালে তাদের কোন প্রতিনিধির কাছ থেকে কোন খাবারও গ্রহণ না করেন- সে বিষয়েও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিংঅফিসারের পরামর্শ মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে।

তিনি বলেন, ভোট দেয়ার বুথসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের পরিবেশ উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার মূল রাস্তা মসৃণ ও যাতায়াত উপযোগীকরণ; ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ; নির্বাচনি সামগ্রী যথাসময়ে ভোটকেন্দ্র পৌঁছানোসহ নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহযোগিতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তাছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের যথাসম্ভব দ্রুত প্রবেশপত্র প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনি বিধি অনুয়ায়ী ভোটকেন্দ্রে তাদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকরা নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য চাইতে পারে। এ বিষয়ে তাদেরকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের জন্য রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে চালু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত ২২ হাজার ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া এ অভিযানে ৪৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ হাজার ৬৬০ রাউন্ড গুলি, ৭৯৯ রাউন্ড কার্তুজ, ১ হাজার ৮৪টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি, বোমা তৈরির উপকরণ, ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ৪২ হাজার ১৬৪ জনসহ সর্বমোট ৬৪ হাজার ৬২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা পার না পেয়ে যায় এবং অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার আরো বৃদ্ধি পায়।

এম

Wordbridge School
Link copied!