ফাইল ছবি
প্রশাসনে একটি রাজনৈতিক দল সমর্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে গত ২০ জানুয়ারী দেশের ৮ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলী করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর দুইদিন পর বদলির আদেশটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
বদলি বাতিলের ঘটনায় বাংলাদেশ অ্যাডমিনিসট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনে (বাসা) সভাপতি জড়িত এমন সন্দেহে সংগঠনটিতে বিভক্তি দেখা গেছে। সংগঠনটির একটি সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গত রোববার গভীর রাতে একটি কমিটির ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে নতুন কমিটি গঠনের সংবাদ সঠিক নয় বলে সংগঠনটির সভাপতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছিলেন। এতে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাদের বদলির তদবির শুরু করেন। তাদের এই বদলীর তদবিরে সহযোগীতা করেন নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদায় কর্মরত থাকা দলটির সমর্থিত সিন্ডিকেট। এই দুই প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অন্ধকারে রেখেই তাদের বদলী করা হয়। যদিও প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানরা এই দুই কর্মকর্তা দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। তার পরেও বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের বদলী আদেশ বাতিল করা হয়।
বদলি আদেশ বাতিলের পেছনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিসট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনে (বাসা) সভাপতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম এর হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে সন্দেহ পোষণ করে রাজনৈতিক দল সমর্থিত সিন্ডিকেট। এ বিষয়টি নিয়ে সংগঠটিতে বিভক্তি তৈরী হয়।
গত রোববার সাড়ে ৬টায় বিয়াম ভবনে সংগঠনটির সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সচিবালয়ের সচিব বেগম কানিজ মওলা, পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা এবং বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান এর সমন্বয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। রাত সাড়ে দশটায় এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এরপর গভীর রাতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব বেগম কানিজ মওলাকে সভাপতি এবং পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞা মহাসচিব ঘোষণা দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, কোষাধ্যক্ষ বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, সহসভাপতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সরকার এবং ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার সম্পাদক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। উপ-কোষাধ্যক্ষ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব একেএম হাফিজুল্লাহ খান লিটন এবং অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব নুরজাহান খানম।
এই কমিটি গঠনের পর সংগঠটির প্যাডে নতুন কমিটি গঠনের সংবাদ সঠিক নয় বলে প্রেসবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেন সংগঠনটির সভাপতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, গত ২৫ জানুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা এসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় এসোসিয়েমনের সদস্যদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি গঠন সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত এ সভায় গ্রহণ করা হয়নি। নতুন কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি সংবাদ কোন কোন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যা সত্য নয়।
সূত্র জানায়, ৮ ইউএনওর বদলীর প্রজ্ঞাপনের পরের দিনই প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও একজন নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা। তারা ভোটের ২২ দিন আগে ৮ ইউএনওকে বদলীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তারা কিছু জানেননা বলে জানান। পরে তাদের প্রজ্ঞাপন দেখালে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে অনুমোদনের বিষয়টি স্বীকার করেন।
বদলী আদেশ হওয়া ইউএনওদের মধ্যে রয়েছেন কলমাকান্দার মাসুদুর রহমান। উপজেলার লেংগুড়া রাজারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের ভাই পরভেজসহ কয়েকজন মিলে সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তুলছিলেন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান গিয়ে ইউএনওকে শাসিয়ে বলেন, ‘এখানে কার অনুমতিতে এসেছেন। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আমার ইউনিয়নে মোবাইলকোর্ট করতে হলে আমাকে বলতে হবে।’
এ ঘটনায় পরদিন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এর একদিন পর গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপণে কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে বদলি করে।
তিন মাস আগে বগুড়ার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন হওয়া প্রীতিলতা বর্মনকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বদলি করা হয়। বদলীর আগের দিন তিনি ধুনট হাসপাতালের সরকারি জমি দখল করে দোকান নির্মাণের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইং এর সিন্ডিকেটকে দিয়ে তাকে সেখান থেকে বদলী করায়।
আল আমিন দীর্ঘ এক বছর ধরে অত্যন্ত সুনাম ও নিরপেক্ষতার সাথে জীবননগরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় প্রভাবশালী পক্ষের সাথে বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বন্দের প্রেক্ষিতে তারা একইভাবে এপিডি উইং এর সিন্ডিকেটকে দিয়ে তাকে সেখান থেকে বদলী করায়। একইভাবে ফরিদপুরের নগরকান্দার ইউএনও মেহেরাজ শারবীন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে একটা বিশেষ গোষ্ঠীর চক্ষুশুল হলে তাকেও বদলি করা হয়।
এসএইচ







































