• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

‘বাড়ি ফিরলে দেখবে বৌ-ছেলের কবর’, জামিনে আক্ষেপ সাদ্দামের মায়ের


জেলা প্রতিনিধি জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
‘বাড়ি ফিরলে দেখবে বৌ-ছেলের কবর’, জামিনে আক্ষেপ সাদ্দামের মায়ের

স্ত্রী ও শিশুসন্তান হারানোর পর বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দামের জামিনের খবরে পরিবারে নেই কোনো আনন্দ বা স্বস্তি। বরং শোক আর আক্ষেপই তাদের কণ্ঠে বেশি শোনা যাচ্ছে। পরিবারের ভাষ্য, জীবিত অবস্থায় যখন স্ত্রী–সন্তানের জন্য জামিন পাওয়া যায়নি, তখন এই জামিনের কোনো বাস্তব মূল্য নেই।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জামিন প্রসঙ্গে সাদ্দামের মা দেলোয়ারা একরাম বলেন, ছেলের জামিন নিয়ে তার আর কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, আগেও একাধিকবার জামিন হয়েছে, কিন্তু তাতে ছেলের মুক্তি মেলেনি। এখন জামিন পেলেও বাড়ি ফিরে সে শুধু স্ত্রী ও সন্তানের কবরই দেখতে পাবে। তার কথায়, “এই জামিন দিয়ে আর কী হবে?”

তবে জামিনের সিদ্ধান্তে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাদ্দামের শ্বশুর ও জাতীয় পার্টির নেতা রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, তারা প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন, যা না দেওয়া ছিল অমানবিক। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের কাছে বিচার চান বলেও জানান তিনি।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় হাইকোর্ট সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তাদের ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বিকেলে লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হলে কারাফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানকে দেখার সুযোগ পান সাদ্দাম।

এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও কেন সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি—সে প্রশ্ন তোলে নেটিজেন ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

সাদ্দাম বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের মৃত একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরামের মেঝ ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর তিনি বাগেরহাট ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। তবে আত্মগোপনে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।

স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তির আশায় জেলা প্রশাসন ও কারাগারে আবেদন করেন সাদ্দামের মামা হেমায়েত উদ্দিন। তিনি জানান, প্যারোলের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও জামিন পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

এম

Wordbridge School
Link copied!