• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬,
SonaliNews

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত নিউজ পোর্টাল

প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে কাঁঠালিয়ার বাঁশ ও বেত শিল্প


ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
প্লাস্টিকের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে কাঁঠালিয়ার বাঁশ ও বেত শিল্প

ছবি: প্রতিনিধি

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প বিলুপ্তির পথে। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এখনো এই পেশা আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে।

আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্লাস্টিকপণ্যের বিস্তারের মধ্যেও একসময় গ্রামবাংলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে ছিল বাঁশ ও বেত শিল্প। তবে নির্বিচারে বাঁশ কাটা, পরিকল্পিত পরিচর্যার অভাব এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় কাঁঠালিয়ায় বাঁশঝাড় ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃতির দুর্যোগ প্রতিরোধক ও পরিবেশবান্ধব এই উদ্ভিদ যেমন উজাড় হচ্ছে, তেমনি হাটবাজারেও আগের মতো চোখে পড়ে না বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী।

এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। বাঁশের বাড়তি দাম, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া ও লাভের ঘাটতির কারণে অনেকেই পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন। তবু পৈতৃক ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু পরিবার এখনো এই শিল্প টিকিয়ে রেখেছে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ ও বেত শিল্পে যুক্ত কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা পূর্বপুরুষের পেশা হিসেবে সাজি, কুলা, ডালা, চালুন, খালুই, মুরগি আটকানোর ঢাকনা, চাই, বুচনাসহ নানা ধরনের সামগ্রী নিজের হাতে তৈরি করছেন। কারিগররা জানান, আমন মৌসুমে ধান ঘরে তোলার সময় এসব সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ে। সে কারণে বর্তমানে কিছুটা বিক্রি বেড়েছে।

উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের রাজু দুয়ারি বলেন, এই শিল্প তাঁদের পূর্বপুরুষের পেশা। এখনো ধরে রেখেছেন, তবে আগের মতো আর সংসার চলে না।

জমাদ্দার হাটে বাঁশজাত পণ্য বিক্রি করতে আসা মুকুল মণ্ডল বলেন, আগে দিনরাত পরিশ্রম করে ভালো আয় করা যেত। এখন চাহিদা কম, লাভও কম। তারপরও বাপ–দাদার পেশা বলে ছাড়তে পারছেন না।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প বিলুপ্তির পথে রয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগররা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁদের জন্য সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।

এসএইচ 

Wordbridge School
Link copied!